যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ানীবাজার সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশকালঃ জুলাই ২৬, ২০২১

প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন বাংলাদেশ বিয়ানীবাজার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ ইনকের- সাধারণ সভা গত ১৯ জুলাই ২০২১ ইং রোজ সোমবার বিকেলে ওজন পার্কের আল মদিনা পার্টি হলে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মকবুল রহিম (চুনই)। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান (রুহুল)।

দীর্ঘ ১৮ মাস পর বিয়ানীবাজার সমিতির সাধারণ সভায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ও অক্টোবর মাসের ১০ তারিখ আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের কারনে এই সভায় বিয়ানীবাজারবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন ছিল চোখে পড়ার মতো।

প্রথম পর্বে ছিল দোয়া মাহফিলঃ- পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিগত ১৮ মাসে প্রবাসে বিয়ানীবাজারের করোনা ভাইরাসসহ নানান অসুস্থতায় চিরতরে হারিয়ে গেছেন অনেক গুনী ব্যক্তিগণ আপনজন ও আত্মীয়সহ সকলের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন ওজন পার্ক ফুলতলী মসজিদের ইমাম।
সাধারণ সভায় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন- বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন (কুনু), জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বদরুল হোসেন খান, বিয়ানীবাজার সমিতির বর্তমান উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি আজিমুর রহমান (বুরহান) ও মাসুদুল হক ছানু, সাবেক সভাপতি মস্তোফা কামাল, উপদেষ্টা আজিজুর রহমান (পাকি), সাবেক উপদেষ্টা শামস্উদ্দিন।

সাধারণ সভায় সম্পাদকীয় রিপোর্ট (বিগত ১৮ মাসের) পেশ করেন সাধারণ সম্পাদক মুহিবুর রহমান (রুহুল)। বিগত ১৮ মাসের কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট পেশ করেন কোষাধ্যক্ষ কাউছার হক (সেলিম)। রিপোর্ট দুটির ওপর আলোচনায় অংশগ্রহন করেন- আতিকুল হক আহাদ, মোহাম্মদ জুয়েল, শাইকুল ইসলাম, মোঃ কামাল উদ্দিন, এটিএম তালহা, বুরহান উদ্দিন কফিল, আবদুল হামিদ, মোঃ আলীম, গউস উদ্দিন খানম আবদুল হান্নান দুখু প্রমুখ।

সাধারণ সভায় সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট ও কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট এর আলোচনার জন্য উপস্থিত সদস্যদের প্রতি সমিতির সভাপতি মকবুল রহিম (চুনই) আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, আগে সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টের উপর আপনাদের প্রশ্ন রাখুন এবং পরে কোষাধ্যক্ষের রিপোর্টের উপর আলোচনায় আসবেন। আমরা এক এক করে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো। সাধারণ সভায় আপনাদের সকলের কথা বলার অধিকার আছে, জানার অধিকার আছে।

নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ সভা চলছিল। সাবেক সভাপতি বুরহান উদ্দিন কফিলের আলোচনায় সম্পাদকীয় রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা না করে কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন করায় বর্তমান সহ-সভাপতি শামীম আহমদ, বুরহান উদ্দিন কফিলের দৃষ্টি আকর্ষন করে সম্পাদকীয় রিপোর্ট নিয়ে কথা বলতে অনুরোধ করেন।

বুরহান উদ্দিন কফিল এ সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং তিনি সভা ত্যাগ করার কথা বলেন। সভাপতিকে বলেন- উনি কে আমার কথার মধ্যে বাধা দেওয়ার, শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেন।

সভাপতি অভিযোগের প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে বলেন- কারো কোন আলোচনায় বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। সাধারণ সভায় সবার কথা বলার অধিকার আছে।
সভা চলাকালীন সহ-সভাপতি শামীম আহমদ কিছুক্ষণ পরে হলের পিছনে দরজার সামনে যাওয়া মাত্রই একদল সন্ত্রাসী যুবক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং শামীম আহমদকে লাঞ্ছিত করে।

মঞ্চ থেকে বারবার সবাইকে শান্ত থেকে সাধারণ সভার কাজ সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সমাপ্ত করার অনুরোধ জানানো হয়। সেই অনুরোধে কেউ কর্ণপাত করেনি। এই সময় সভাপতি মকবুল রহিম (চুনই) বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি শামীম আহমদের উপর অতর্কিত আক্রমনের নিন্দা জ্ঞাপন করেনন এবং আগামী সাধারণ সভায় সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে। উদ্ভুত পরিস্থিতির কারনে নির্ধারিত সূচীর আলোচ্য বিষয় সমাপ্ত না করেই সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।